Headlines

বিটকয়েনের সবচেয়ে বড় সরকারি মালিক যুক্তরাষ্ট্র, হাতে ৩ লাখ ২৯ হাজার BTC

কোন দেশের কাছে সবচেয়ে বেশি বিটকয়েন, যুক্তরাষ্ট্র চীন ও যুক্তরাজ্যের Bitcoin holdings যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের সরকারি Bitcoin holdings-এর প্রতীকী চিত্র

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও সরকারি সংস্থার হাতে থাকা Bitcoin-এর পরিমাণ এখন আর ছোট কোনো সংখ্যা নয়। CoinGecko-এর Government Bitcoin Treasuries tracker অনুযায়ী, তালিকার শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ৩ লাখ ২৯ হাজার ৬৯৩ BTC। এর পরেই চীনের ১ লাখ ৯০ হাজার এবং যুক্তরাজ্যের ৬১ হাজার ২৪৫ Bitcoin।

তবে এই তালিকা দেখেই ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই যে দেশগুলো বাজার থেকে বিলিয়ন ডলারের Bitcoin কিনেছে। সরকারি Bitcoin holdings-এর বড় একটি অংশ এসেছে criminal seizure, asset forfeiture এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জব্দ করা cryptocurrency থেকে। আবার El Salvador-এর মতো দেশ সরাসরি Bitcoin কেনার নীতিও অনুসরণ করেছে।

CoinGecko-এর তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের ৩ লাখ ২৯ হাজার ৬৯৩ BTC পুরো Bitcoin supply-এর প্রায় ১.৫৭ শতাংশ। ব্যবহারকারীর দেখা tracker snapshot-এ এই Bitcoin-এর বাজারমূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ২৫.২৫ বিলিয়ন ডলার। Bitcoin-এর দাম পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই dollar value-ও প্রতি মুহূর্তে পরিবর্তিত হয়।

কোন দেশের কাছে সবচেয়ে বেশি বিটকয়েন, সরকারি Bitcoin holdings

কোন দেশের হাতে কত Bitcoin?

CoinGecko tracker-এর snapshot অনুযায়ী শীর্ষ সরকারি entity-গুলোর অবস্থান ছিল এমন—

 

অবস্থান দেশ/Entity Bitcoin Holdings মোট BTC Supply-এর অংশ
১ যুক্তরাষ্ট্র 329,693 BTC 1.570%
২ চীন 190,000 BTC 0.905%
৩ যুক্তরাজ্য 61,245 BTC 0.292%
৪ উত্তর কোরিয়া 13,562 BTC 0.065%
৫ ভুটান 10,769 BTC 0.051%
৬ এল সালভাদর 7,474 BTC 0.036%
৭ সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) 6,333 BTC 0.030%
৮ ভেনেজুয়েলা 240 BTC 0.001%
৯ ফিনল্যান্ড 90 BTC <0.001%
১০ টেক্সাস 57 BTC <0.001%

শুধু শীর্ষ সাতটি entry হিসাব করলেই তাদের সঙ্গে যুক্ত Bitcoin-এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৬ লাখ ১৯ হাজারের বেশি BTC।

যুক্তরাষ্ট্রের Bitcoin এত বেড়েছে কীভাবে?

এই তালিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গল্পটি সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে।

CoinGecko-এর transaction history অনুযায়ী ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত Bitcoin balance ছিল প্রায় ১ লাখ ৯৮ হাজার BTC। কিন্তু ২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর tracker-এ একবারেই আরও ১ লাখ ২৭ হাজার ২৭১ BTC যোগ হয়। পরবর্তী সময়ে আরও পরিবর্তনের পর balance ৩ লাখ ২৯ হাজার ৬৯৩ BTC-তে পৌঁছায়।

এই বড় বৃদ্ধির সঙ্গে মিলে যায় U.S. Department of Justice-এর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় cryptocurrency forfeiture action।

২০২৫ সালের অক্টোবরে মার্কিন বিচার বিভাগ Cambodian businessman Chen Zhi-র সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মামলায় প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার ২৭১ Bitcoin-এর বিরুদ্ধে civil forfeiture complaint দায়ের করে। DOJ জানিয়েছিল, Bitcoinগুলো তখন U.S. government-এর custody-তে ছিল এবং সে সময় এগুলোর মূল্য ছিল প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার।

অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল Bitcoin holding-এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সরাসরি বাজার থেকে government investment হিসেবে কেনা নয়; বরং law-enforcement action-এর মাধ্যমে সরকারি custody-তে এসেছে।

সব ৩ লাখ ২৯ হাজার Bitcoin কি যুক্তরাষ্ট্রের Strategic Reserve-এ?

না—এখানে পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৫ সালের ৬ মার্চ মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump একটি Executive Order-এর মাধ্যমে Strategic Bitcoin Reserve এবং U.S. Digital Asset Stockpile প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন।

White House-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, criminal বা civil asset forfeiture-এর মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে U.S. Treasury-এর মালিকানায় আসা Bitcoin Strategic Bitcoin Reserve-এ রাখা যেতে পারে। Reserve-এ জমা হওয়া Bitcoin সাধারণভাবে বিক্রি না করে reserve asset হিসেবে ধরে রাখার নীতিও নির্ধারণ করা হয়।

কিন্তু কোনো Bitcoin U.S. government-এর custody-তে থাকলেই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে Strategic Bitcoin Reserve-এর সম্পদ হয়ে যায় না। Court proceedings, victims-এর compensation এবং forfeiture status-এর মতো বিষয়ও এখানে প্রভাব ফেলতে পারে।

তাই CoinGecko-তে দেখা 329,693 BTC-কে সরাসরি “U.S. Strategic Bitcoin Reserve-এর পরিমাণ” বলা ঠিক হবে না।

দ্বিতীয় অবস্থানে চীন

চীনের সঙ্গে যুক্ত সরকারি Bitcoin holding দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার BTC, যা Bitcoin-এর সর্বোচ্চ ২১ মিলিয়ন supply-এর প্রায় ০.৯০৫ শতাংশ।

CoinGecko-এর হিসেবে এই সংখ্যাটি যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ government Bitcoin holding।

এখানেও একই সতর্কতা প্রয়োজন। চীনের holding-এর বড় অংশ historically seized cryptocurrency হিসেবে বিভিন্ন tracker-এ গণনা করা হয়। ফলে এটিকে Chinese government-এর নিয়মিত Bitcoin investment portfolio হিসেবে দেখা বিভ্রান্তিকর হতে পারে।

 

যুক্তরাজ্যের কাছেও ৬১ হাজারের বেশি Bitcoin

তৃতীয় অবস্থানে থাকা যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ৬১ হাজার ২৪৫ BTC, যা মোট Bitcoin supply-এর প্রায় ০.২৯২ শতাংশ।

CoinGecko এই holding-এর current market value কয়েক বিলিয়ন ডলার হিসেবে track করছে।

ফলে শুধু যুক্তরাষ্ট্র বা চীন নয়, পশ্চিমা বিভিন্ন দেশের আইনশৃঙ্খলা ও asset-seizure process-এর কারণেও রাষ্ট্রের হাতে উল্লেখযোগ্য cryptocurrency জমা হচ্ছে।

উত্তর কোরিয়ার সংখ্যাটি কেন সতর্কতার সঙ্গে দেখতে হবে?

Snapshot-এ উত্তর কোরিয়ার নামে ১৩ হাজার ৫৬২ BTC দেখা গেলেও government crypto holdings-এর ক্ষেত্রে data provider-ভেদে বড় পার্থক্য রয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে, BitcoinTreasuries.net-এর সাম্প্রতিক tracker উত্তর কোরিয়ার ক্ষেত্রে CoinGecko-এর তুলনায় অনেক কম Bitcoin দেখাচ্ছে। একইভাবে ভুটানের সংখ্যাতেও দুই tracker-এর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

এর কারণ হলো “government holding” নির্ধারণের methodology সব platform-এ এক নয়। কোনো tracker government-controlled wallet, seized asset বা রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কিত hacking group-এর attributed wallet অন্তর্ভুক্ত করতে পারে, আবার অন্য tracker শুধু confirmed sovereign holdings গণনা করতে পারে।

তাই এসব সংখ্যা audited central-bank reserve statement হিসেবে নয়, বরং blockchain intelligence ও publicly available information-এর ভিত্তিতে তৈরি estimates হিসেবে দেখা বেশি যুক্তিযুক্ত।

Bitcoin এখন কি রাষ্ট্রীয় reserve asset হয়ে উঠছে?

Bitcoin-এর মোট supply সর্বোচ্চ ২১ মিলিয়ন BTC। এর মধ্যে শুধু একটি দেশের সঙ্গে যদি ১.৫ শতাংশের বেশি supply যুক্ত থাকে, তাহলে বিষয়টি crypto market-এর জন্য অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ।

তবে বর্তমানে দুই ধরনের trend পাশাপাশি চলছে।

একদিকে El Salvador-এর মতো দেশ deliberate policy-এর মাধ্যমে Bitcoin accumulation করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশের অনেক Bitcoin এসেছে law-enforcement seizure-এর মাধ্যমে।

যুক্তরাষ্ট্র এই ব্যবধানটি আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে Strategic Bitcoin Reserve প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। আগে seized Bitcoin সাধারণত সময়ের সঙ্গে বিক্রি করে দেওয়া হতো; এখন অন্তত নির্দিষ্ট eligible Bitcoin দীর্ঘমেয়াদি reserve asset হিসেবে ধরে রাখার একটি সরকারি framework তৈরি হয়েছে। White House নিজেও Bitcoin-এর সীমিত supply-এর কারণে এটিকে “digital gold”-এর সঙ্গে তুলনা করেছে।

সরকারের হাতে এত Bitcoin থাকা বাজারের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

রাষ্ট্রের হাতে থাকা Bitcoin-এর প্রভাব শুধু তাদের balance sheet-এ সীমাবদ্ধ নয়।

বড় কোনো সরকার যদি হাজার হাজার Bitcoin বাজারে বিক্রি করে, তাহলে supply pressure তৈরি হতে পারে। বিপরীতে বড় holding দীর্ঘমেয়াদে না বিক্রির সিদ্ধান্ত নিলে বাজারে available supply কমে যাওয়ার narrative শক্তিশালী হতে পারে।

এ কারণে government wallet movement, court forfeiture এবং reserve policy এখন cryptocurrency investors-এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ market signal-এ পরিণত হয়েছে।

তবে শুধু কোনো tracker-এর balance দেখে Bitcoin-এর দাম বাড়বে বা কমবে—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। কারণ wallet ownership, legal ownership এবং actual sellable reserve—এই তিনটি বিষয় সবসময় একই নয়।

শেষ পর্যন্ত CoinGecko-এর এই তালিকা একটি বিষয় স্পষ্ট করছে—Bitcoin এখন আর শুধু retail investor বা private company-র সম্পদ নয়। বিশ্বের বড় বড় রাষ্ট্র ও সরকারি সংস্থার balance sheet, custody account এবং asset-forfeiture system-এর সঙ্গেও cryptocurrency ক্রমেই গভীরভাবে যুক্ত হচ্ছে।

আর যুক্তরাষ্ট্রের ৩ লাখ ২৯ হাজারের বেশি BTC সেই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *